চুনারুঘাটে বন বিভাগের নিলামে হামলা–টাকা লুট শ্রমিকদল নেতা জাহাঙ্গীরসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা
আপডেট সময় :
২০২৫-১২-১০ ১৫:২৮:৫১
চুনারুঘাটে বন বিভাগের নিলামে হামলা–টাকা লুট শ্রমিকদল নেতা জাহাঙ্গীরসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বন বিভাগের জব্দকৃত বনজ দ্রব্যের প্রকাশ্য নিলাম কার্যক্রম চলাকালে বন কর্মকর্তার ওপর হামলা, নিলাম প্রক্রিয়ায় বাধা ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ডেপুটি রেঞ্জার সৈয়দ আশিক আহমেদের অভিযোগের ভিত্তিতে শ্রমিকদলের আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান (৪৫), বিএনপির সহ স্থানীয় সরকার বিষয়ক
সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ শাম্মি আক্তারের ছোট ভাই মো. সাইফুল ইসলামসহ অজ্ঞাত আরও ৪–৫ জনকে আসামি করে চুনারুঘাট থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মামলাটি রুজু করে পুলিশ। অভিযোগসূত্রে জানা যায়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী গত ৮ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে শায়েস্তাগঞ্জ, কালেঙ্গা ও রঘুনন্দন রেঞ্জের জব্দকৃত বনজ দ্রব্যের প্রকাশ্য নিলাম চুনারুঘাটে সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) কার্যালয় প্রাঙ্গণে শুরু হয়। সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন ডেপুটি রেঞ্জার সৈয়দ আশিক আহমেদসহ বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
সকাল প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে আইতন গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম খান ও আমরোড এলাকার মো. সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজন নিলামস্থলে এসে হট্টগোল শুরু করেন এবং নিলাম কার্যক্রমে বাধা দেন। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে জাহাঙ্গীর আলম ডেপুটি রেঞ্জারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং দাঁত ভাঙার হুমকি দেন। এ সময় সাইফুল ইসলাম তাঁর ওপর এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে কর্মকর্তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে বলে মামলা সূত্রে জানা যায়। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর আলম ডেপুটি রেঞ্জারের প্যান্টের পকেটে থাকা ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার আগে নিলাম কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং মামলা করলে খুন করে ফেলার হুমকিও দেয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মো. জাহাঙ্গীর আলম খান দীর্ঘদিন ধরে চুনারুঘাট পূর্বাঞ্চলে গাছ পাচারের ‘গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে পাহাড়ি অঞ্চল ও বনাঞ্চল থেকে গাছ কাটার অভিযোগ বহুবার উঠলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের দিন ফরেস্ট বিভাগের গাছ জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয় কয়েকজন বলেন, দলীয় পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে বনাঞ্চলকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন।
গোপনে চুনারুঘাট- কালেঙ্গা এলাকার পাহাড়ি পথ ধরে মূল্যবান গাছ পাচারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় একাধিকবার প্রশাসনে অভিযোগ গেলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে কথা বললে প্রাণনাশের ভয় থাকে। বন থেকে গাছ কাটা–তোলা সব কিছুতেই তার লোকজন জড়িত। ঘটনার পর আহত ডেপুটি রেঞ্জার আশিক আহমেদ চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। পরে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মামলা রুজু হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির বলেন, প্রকাশ্য নিলামকে কেন্দ্র করে বাধা–হামলা হলে সরকারি রাজস্ব আয় ব্যাহত হয় এবং জব্দকৃত মালামালও ঝুঁকিতে পড়ে। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা সুষ্ঠু বন ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের হুমকি। দোষীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin
কমেন্ট বক্স